Prisoner killed in lightning strike in Lakshmipur

রামগতি প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বজ্রপাতে মেহরাজ উদ্দিন (৩৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছেরাজ উদ্দিন ও বেচু মিয়া নামে আরও দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ছেরাজকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজনকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার রামগতিরহাট মাছঘাটের  আশ্বিনী খালের মোহনায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহরাজ চর গাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর এলাকার শফিক উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় চর গাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন জানান, মেহরাজ, ছেরাজ ও বেচুসহ ১৪-১৫ জন জেলে স্থানীয় মুকিত মাঝির ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরে ঘাটে ফিরছিলেন। আশ্বিনী খালের মোহনায় এলে তাদের ট্রলারে উপর বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মেহরাজ নিহত হন এবং ছেরাজ ও বেচু আহত হন।




Suu Kyi is a disgrace on her own Facebook page

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ইস্যু এখন রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা। দেশটির আরকান রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম নির্যাতন আর বিভৎস ঘটনার জন্ম দিচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই চলছে প্রতিবাদ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকালেও উল্টো সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ায় দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। মানবাধিকারের কথা বলে ক্ষমতায় আসা সু চি কেন এখন মানবতাবিরোধী এমন একটি সরকারি কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তার বিরুদ্ধে দেশে দেশে বিক্ষোভ মিছিল, র‌্যালি হলেও সমালোচনা থেমে নেই তার ফেইসবুক পেইজে’ও। শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রীকে নিজের ফেসবুক পেজেই বিভিন্ন পোস্টে কটাক্ষ আর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবি করেছেন। তবে এসব কিছুকেই পাত্তা দিচ্ছেনা না তিনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের অধিবেশনেও যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সু চি।

রবিবার সু চির ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে গিয়ে দেখা যায়, তার কভার ফটোতে নানা সমালোচনা, প্রতিবাদ আর কটাক্ষে ভরপুর। বিকালে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সু চি’র পেজের শুধু কাভার ফটোতেই মন্তব্য পড়েছে সাড়ে ১৭ হাজারের মতো, যার সিংহভাগই করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়ে। এছাড়া ছবিটি শেয়ার করেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।

২০১৬ সালে ১৩ এপ্রিল পোস্ট করা কাভার ফটোতে দেখা যাচ্ছে সু চি শপথ নিচ্ছেন। ছবিটিতে মন্তব্যকারী সবাই যে রোহিঙ্গা ঢলে আক্রান্ত বা উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি তা নয়। সবাই মুসলিমও নন। কিন্তু নির্যাতন বন্ধের ইস্যুতে তারা প্রায় সবাই-ই একমত।

এছাড়াও অনেকের বক্তব্য ছিল, তারা আগে অং সান সু চি’কে খুব পছন্দ করতেন। এমনকি মানবাধিকারের জন্য লড়াই করা গৃহবন্দী সু চি’কে ভালোও বাসতেন তারা। মানবতার পক্ষে লড়াইয়ের প্রতীক মনে করতেন। কিন্তু এখন সু চি তাদের কাছে ঘৃণিত একটি নাম।

এভাবে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা, বোঝানো, ধমকানো, তর্কবিতর্ক ছাড়াও রোহিঙ্গাদের বিপদমুক্তি এবং সু চি ও তার সরকারের শুভবুদ্ধির উদয়ের প্রার্থনা জানিয়েও কমেন্ট করেছেন বহু ফেসবুক ব্যবহারকারী।




Human chain demanding job national swimming

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ
নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্ত ও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ সহ বিভিন্ন দাবীতে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন করেছে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচী পালন করে তারা।
স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আহবায়ক, এ কে এম মাহবুবুর রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক নেতা রুহুল আমিন মাষ্টার, মঞ্জুরুল হক, আহমদ মিজানুর রহমান, কামাল হোসেন জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাহজাহান কামাল প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ৫% বৃদ্ধি বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয় করণ করার জোর দাবী জানান, পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
এসময় মানববন্ধনে অংশ নেয় রায়পুর, রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

 




MP Abdullah's Press Secretary Russell Patwari

 লক্ষ্মীপুর : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ’র প্রেস সচিবের দায়িত্ব পেয়েছে সাংবাদিক মোহাম্মদ রাসেল পাটওয়ারী।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এমপি আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচীর তথ্য সংগ্রহ, স্থিরচিত্র, ভিডিও সংরক্ষণ এবং সকারের উন্নয়নের ব্যাপক প্রচারের সুবিধার্থে মোহাম্মদ রাসেল পাটওয়ারীকে তার (এমপি’র) ব্যক্তিগত প্রেস সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। মোহাম্মদ রাসেল পাটওয়ারী স্থানীয় মাসিক সাম্প্রতিক স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার সবুজ গ্রামের মৃত আবদুল কাদের পাটওয়ারীর ছেলে।




3 injured in opponent attack in Kamalnagar

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে চর কাদিরা ইউনিয়নের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, হোসেন কারী, মাহফুজা, মো: হিরন। হোসেন কারীকে কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে চর কাদিরা ইউনিয়নের কারী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা হলেন আবুল কালামের ছেলে মোঃ ওমর (৩০), হেলালের ছেলে মোঃ ইউসুফ(১৮), ছায়েদল হকের ছেলে আবুল কালাম (৬২), আবুল কালামের ছেলে মোঃ সেলিম (৩৫) ও মোঃ হেলাল (৪০) সহ আরো অনেকে এ হামলা চালায়।

হোসেন কারী জানান আমার গাছ থেকে আবু কালামের ছেলেরা সুপারি পাড়িয়া নেওয়ার সময় আমি বাধা সৃষ্টি করলে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় দলবল নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়।

আবু কালামের জামাতা ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল মালেকে বলেন ওয়ারিশি সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।




Sanitary napkins distributed to create awareness among students in Kamalnagar

Lakshmipur: Sanitary napkins have been distributed among secondary school students in Kamalnagar, Lakshmipur to increase health awareness.

Sanitary napkins were distributed among 800 students of Smriti Girls High School in Hazirhat Towaha on Wednesday (September 13) afternoon.

During this time, Kamalnagar Upazila Chairman Advocate Syed Mohammad Shamsul Alam, Upazila Executive Officer (UNO) Mohammad Masudur Rahman Molla, Hazirhat Union Parishad (UP) Chairman Md. Nizam Uddin, Upazila Secondary Education Officer Md. Touhidul Islam, and school headmaster AKM Zahid Billah delivered awareness speeches.

Kamalnagar Upazila Executive Officer (UNO) Mohammad Masudur Rahman Molla said that sanitary napkins have been distributed from ADP funds to make girl students aware. In the future, sanitary napkins will be distributed among girl students in secondary level educational institutions of the upazila.




Human chain protesting torture of disabled student in Lakshmipur

লক্ষ্মীপুরে প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত নির্যাতনকারী মোরশেদুল ইসসলাম মহসিনের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার কামানখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয় কামানখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামানখোলা পলিটেকনিক হাই স্কুল ও কামানখোলা দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা।

বক্তব্য দেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহম্মদ ভূইয়াঁ, সহকারি প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন কামাল, মাদ্রাসা সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মারুফ হোসেন সুজন প্রমুখ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে বাড়ির সামনের দোকানদার মোরশেদুল ইসলাম মহসিন চকলেটের লোভ দেখিয়ে যৌনর্নিযাতন করে। এ ব্যাপারে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা করেন। অভিযুক্তকে মহসিনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।




This time, evidence of abortion found in Ram Rahim's Dera

বিস্ফোরক, নিজস্ব মুদ্রা, যৌন গুহার পর এবার রাম রহিমের ডেরায় মিলল গর্ভপাতের প্রমাণ। অপরাধের আখড়া হয়ে উঠেছিল রাম রহিমের ডেরা।
বাবা জেলে যাওয়ার পর থেকেই তার একের পর এক অবৈধ ক্রিয়াকলাপ সামনে আসছে।

বাবার গোপন ডেরায় যথেচ্ছ যৌনাচারের প্রমাণ মিলেছিল আগেই। এবার জানা গেল এ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ডেরার মধ্যে এক হাসপাতালে অবাধে চলত গর্ভপাত।
প্রায় ৬০০ একর জায়গা জুড়ে থাকা বাবার আশ্রমে হানা দিয়ে এই ঘটনার একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে প্রশাসন। প্রায় ৩০-৪০ জন সাধ্বী যে বাবার যৌন লালসার শিকার হয়েছিলেন, তা জানা গিয়েছিল আগেই। বিলাসের জন্য জলের তলায় সেক্স কেভ বানিয়েছিল রাম রহিম। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর গর্ভনিরোধক ও কন্ডোম।

এ অবস্থায় অবৈধ গর্ভপাতের মতো ঘটনা সামনে আসার পরেও অবাক হচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। শাহ সতনম জি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রেকর্ড বুকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। ডেপুটি কমিশনার প্রভোজৎ সিং এই অসঙ্গতির কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গর্ভপাতের ক্ষেত্রে সাধারণ যে নিয়মকানুন রয়েছে, তা বাবার ডেরায় মানা হতো না। ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ভাবেই গর্ভপাত হত ওই হাসপাতালে, সন্দেহ এমনটাই।

মনে করা হচ্ছে, অন্তত ছ’টি ক্ষেত্রে এই কাজ করা হয়েছে এবং এর শিকার হয়েছে মূলত সাধ্বীরাই। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




Prime Minister calls on Myanmar to immediately stop violence in Rakhine

অবিলম্বে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও মিয়ানমারের প্রতি চাপ দিতে আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এসময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যেন কষ্ট না হয়, তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যেন ভাগ্য গড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আজ ১১টা ৩০মিনিটে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় দেশটির একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়াসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্মম নির্যাতন, স্বজনের মৃতদেহ রেখে টানা না খেয়ে প্রাণ নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক নতুন,পুরাতন মিলে ৭লাখ রোহিঙ্গা।




Resolution in Parliament calling for end to push-in and repatriation of Rohingyas

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও পুশইন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়ার আহবান জানিয়ে জাতীয় সংসদ সর্বসম্মতভাবে একটি রেজুলেশন গ্রহণ করেছে।
এ রেজুলেশনে মিয়ানমার সরকারের উপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেজুলেশনটি জাতিসংঘ, মায়ানমারসহ বিশ্বের জাতিসংঘের সব সদস্য দেশে প্রেরণ করা হবে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনে সংসদে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ ও তাদের ফিরিয়ে নিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে আনীত ডা. দীপুমনির প্রস্তাবের (সাধারণ) ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে এই রেজুলেশন গৃহীত হয়। সরকার ও বিরোধী দলের ২২ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। এরআগে রেজুলেশন গ্রহণের ফলে কী লাভ হবে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি চৌধুরী বলেন, রেজুলেশনটি জাতিসংঘ, মায়ানমারসহ বিশ্বের জাতিসংঘের সব সদস্য দেশে প্রেরণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিষয়টি আইনগত ভিত্তি পাবে এবং মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক সমাজ চাপ প্রয়োগ করার নৈতিক দায়ের সৃষ্টি হবে।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু ও ড. আলমীগর খান মহিউদ্দীন, জাসদের নির্বাহী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, এ বিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, জাসদের বেগম শিরীন আক্তার, ফখরুল ইমাম, মেজর জেনারেল এটিএম আবদুল ওয়াহহাব (অব:), কক্সবাজারের এমপি সাইমুম সারোয়ার কমল প্রমুখ।
কার্য প্রণালী বিধির ১৪৭ (১) ধারা অনুসারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপুমনি এই প্রস্তাব গ্রহণের জন্য রবিবার নোটিশ প্রদান করেন। সেখানে তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর অব্যাহত নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ, তাদের নিজ বাসভূমি থেকে বিতারণ করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের উপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো ক‚টনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহবান জানানো হোক।
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি মানুষ হিসেবে। মুসলমান হিসেবে। ভারত এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান। তবে যেভাবে তারা আসছে, তা আমাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। ওদের সাথে অস্ত্র চলে আসছে। মাদকও আসছে। এ বিষয়ে সরকারের আরো নজরদারি বাড়ানো উচিত। তাদের একটি জায়গায় রাখা উচিত। পরিচয়পত্র দেওয়া উচিত। চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা উচিত। অবশ্য এ বিষয়ে এরমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যেসব উদ্যো নেওয়া হয়েছে এবং হবে এর মাধ্যমে সমাধানের একটি পথ বেরিয়ে আসবে। তিনি নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির সমালোচনা করে বলেন, তিনি কী করে এমন অমানবিক কাজ করতে পারেন।
মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, রোহিঙ্গাদের মানুষ হিসেবে আশ্রয় দিয়েছি। মুসলমান হিসেবে নয়। ওদের সিদ্ধান্ত, ‘কিল দেম অল বার্ণ দেম অল’। তিনি জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, পাপুয়া নিউ গিনিতে আপনারা ৯৯ সালে ভোটাধিকারের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। ওদের চামড়া সাদা ছিল। রোহিঙ্গাদের চামড়া কালো বলে ওদের আপনারা মানুষই মনে করছেন না। কিন্তু ওরাও মানুষ ওদের নাগরিকত্ব ও ভোটধিকারের ব্যবস্থা করুন। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছেন। ঠিক আছে। কিন্তু বাংলাদেশকে বিপদ মুক্ত রাখুন। আমরা সংঘাত চাই না।
ডা. দীপুমনি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর অব্যাহত নির্যাতন নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করায় সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির লাখ লাখ লোক ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিষ্ঠুর নির্মমতার শিকার কেউ অর্ধমৃত, কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ বা আবার ক্ষত বিক্ষত হাত পা নিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু কোনো মতে জীবন নিয়ে ঢলের মতো প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। নাফ নদীতে ভাসছে সারি সারি রোহিঙ্গার লাশ। নিজ ভূমি থেকে রোহিঙ্গা জন গোষ্ঠিকে জাতিগতভাবে নির্মূলের লক্ষ্যে চালানো অব্যাহত নৃশংসতার গর্ভবতী মা বোনসহ দুগ্ধপোষ্য শিশুকেও রেহায় দিচ্ছেন এ সকল বাহিনী। তাদেরকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বাঙালি সন্ত্রাসী হিসেবে। এদের প্রতিটির বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যাতে নিজভূমিতে ফিরতে না পারে। মানবিক কারণে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দুর্দশাগ্রস্থ এই জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী। তারা ৫’শ বছরের অধিক সময় ধরে আরাকান রাজ্যে বসবাস করছেন। তিনি আরাকান রাজ্যের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতাব্দীতে আরাকান ছিল স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। ১৪০৪ সাল থেকে ১৬১২ সাল পর্যন্ত ১৬ জন মুসলিম সম্রাট আরাকান শাসন করেছেন। রাজা বোধাপোয়া ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে তৎকালীন বার্মার সঙ্গে যুক্ত করেন। ১৯৪৮ সালে ইউনিয়ন অব বার্মা বৃটিশদের কাছ থকে স্বাধীনতা লাভের সময়ও আরাকান বার্মার অংশ থেকে যায়।