Where will people with limited income go?

প্রতিবছর দেখা যায়, রোজা ও ঈদের কারণে যেসব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, ঈদের পর তা কমতে থাকে। কিন্তু এবার ঈদের পরও পেঁয়াজ, আলু, ডিম, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেড়ে চলেছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে আরও বেশি দুর্ভাবনায় ফেলেছে।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, বাজারে ঈদের পর নতুন বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারে মূলত সরবরাহের সংকটে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়েছে। মানভেদে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যে দেশি রসুন প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছিল, বৃহস্পতিবার তা ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ঈদের পর প্রতি ডজন ডিমে দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।




Amnesty report: Free speech under threat

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দিয়েছিল। এই জনগোষ্ঠীর সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ সদস্য এখনো এ দেশে আশ্রিত। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার অনুধাবনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনো হুমকিতে রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল মিশ্র।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব মন্তব্য করেছে। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ‘এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি: ২০১৯ সালের পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দমনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, যাতে ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে ভয়ভীতি দেখাতে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে, তার আওতায় ২০১৯ সালে অন্তত ২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রায় ৪০০ জনের বিরুদ্ধে এই আইনে অভিযোগ করা হয়েছে। আইনটি পুলিশকে গ্রেপ্তার ও আটক করার ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছিল পুলিশের দুর্নীতির খবর প্রকাশের জন্য। পরে অবশ্য ওই সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই আইনের কারণে সাংবাদিকেরা স্বনিয়ন্ত্রণে (সেলফ সেন্সর) বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিরোধী রাজনীতিকদের সভা–সমাবেশ ও মিছিল করতে দেওয়া হয়নি, যা তাঁদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকারের লঙ্ঘন। গত সেপ্টেম্বরে অন্তত ১৪টি জেলায় বিএনপিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। অক্টোবরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় আবরার ফাহাদ নামের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গত বছর ৩৮৮ জনের বেশি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিকে ঘটনার কয়েক মাস আগেই গুম করার অভিযোগ আছে। এ ছাড়া গত বছর অন্তত ১৩ জন গুম হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ গত বছরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয় রয়েছে যে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে কিংবা ভাষানচরে স্থানান্তর করা হতে পারে। সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা শিবিরে মুঠোফোন সেবা বন্ধে মুঠোফোন কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা শিবিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, কঠোর আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। এই আইন ভিন্নমতকে কার্যকরভাবে সংকুচিত করেছে। বাংলাদেশে মুখ খোলার জন্য মানুষের হয়রানি ও গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করা ব্যক্তিদের ব্যাপারে তাঁদের খুব সহজেই ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া আরও বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে, অপরাধীদের সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলছে বাংলাদেশে।




ক্যাসিনো–কাণ্ডের সেই সেলিম প্রধান এবার উপজেলা ভোটে প্রার্থী

ক্যাসিনো–কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার বছর সাজাও খেটেছেন। আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন। অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সাজাপ্রাপ্ত সেলিম প্রধান এবার উপজেলা নির্বাচন করছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।

এরই মধ্যে আলোচিত এই ব্যক্তির গণসংযোগের কিছু ভিডিও চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উৎসুক্য তৈরি হয়েছে।

তবে উপজেলা পরিষদ আইন বলছে, কোনো নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এবং থাকবার যোগ্য হবেন না।

এ বিষয়ে সেলিম প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের মামলায় আপিল ও সাজা স্থগিত করতে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তাই নির্বাচন করতে তাঁর আইনগত কোনো বাধা নেই।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাইল্যান্ডগামী বিমান থেকে নামিয়ে এনে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাঁর বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে দেশি–বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছিল, সেলিম প্রধান বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো বা অনলাইন জুয়ার মূল হোতা। তিনি প্রচুর টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেলিম প্রধান বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন ক্যাসিনো চালু করেন। তিনি গুলশান ও বনানীতে পি ২৪ এবং টি ২১ অনলাইন নামে অনলাইনে ভিডিও গেম খেলার প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। পরে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সেগুলোকে অনলাইন ক্যাসিনোয় রূপান্তর করেন। ওই অনলাইন ক্যাসিনোর প্রধান কেন্দ্র ছিল ফিলিপাইনে।

সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ছাড়াও ঢাকার গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা হয়। বিচারাধীন এসব মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল দুদকের করা মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। তাতে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের দুই ধারায় সেলিম প্রধানকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। ইতিমধ্যে তাঁর সাজাভোগ শেষ হওয়ায় এবং বাকি মামলায় জামিন পাওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পান তিনি। সাজার বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যে আপিল করেছেন, সেটা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির দুই বছরের বেশি দণ্ড ও সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সাজা স্থগিত থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না; যদি সাজা উপযুক্ত আদালতে বাতিল না হয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, অতীতে সাজাপ্রাপ্ত হলেও আপিল করে নির্বাচন করতে পারতেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এখন মনে হয় না সেলিম প্রধান নির্বাচন করতে পারবেন। খালেদা জিয়াও এ কারণে নির্বাচন করতে পারেননি।

 




আবদুল আউয়াল মিন্টু হাসপাতালে ভর্তি

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে বাসায় ঘুমাতে যাওয়ার পর তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হয়। এ সময় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে বিএনপির নেতা তাবিথ আউয়াল প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন উনি হৃদ্‌রোগে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না। ওনার রক্তের তিনটি পরীক্ষা হয়েছে। দুটিতে নেগেটিভ এসেছে। তৃতীয়টির রিপোর্ট হাতের পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হতে পারব আসলে কী হয়েছে। তবে এখন ওনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’

আবদুল আউয়াল মিন্টুকে দেখতে আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

৭৪ বছর বয়সী আবদুল আউয়াল মিন্টু মাল্টিমোড গ্রুপের কর্ণধার। তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টুর পরিবার তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।




Misha-Dipzol was given victory garland by Nipun, he said

শেষ হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির ২০২৪-২৬ নির্বাচন। ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আগেরবারের সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার ও সভাপতি প্রার্থী মাহমুদ কলিকে হারিয়ে জয়ের মালা ছিনিয়ে নিয়েছে মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল প্যানেল।
শুক্রবার ভোট গ্রহণ শেষে শনিবার সকালে ঘোষিত হয় ফলাফল। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদ কলি। সাধারণ সম্পাদক পদে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল পেয়েছেন ২২৫ ভোট। ১৬ ভোট কম পেয়ে হেরেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ আক্তার। পেয়েছেন ২০৯ ভোট।
ভোটে হেরেই গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতির কথা জানান নিপুণ। নিপুণের ভাষ্য, ‘ভেবেছিলাম ডিপজল সাহেবের বিপরীতে আমি যখন দাঁড়াব, ভোট পাব সর্বোচ্চ ৫০টি। সেখানে ভোট পেলাম ২০৯টি। হেরেছি মাত্র ১৬ ভোটে। এতেই প্রমাণিত হলো যে শিল্পী সমিতির ভাই-বোনেরা আমাকে কতটা ভালোবাসেন। এত সম্মান দেওয়ার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।’ এমনকি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য নিজেকেই কৃতিত্ব দেন নিপুণ। অথচ নির্বাচনের আগে নিজের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন এই অভিনেত্রী।

নির্বাচনে হেরে গেলেও মিশা-ডিপজলকে জয়ের মালা পরিয়ে দেন নিপুণ। পাশাপাশি পরাজিত নিপুণকেও মালা পরিয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খলনায়ক ডিপজল।

অন্যদিকে নির্বাচনে জিতেই নিপুণ আক্তার এবং ডিপজলকে হাতে হাত মিলিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মিশা। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পাশে থাকার জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিনেতা। নিপুণের প্রশংসা করে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমরা জিতেছি, এটা বড় কথা নয়, নিপুণসহ তাঁর প্যানেলের সবাই আমাদের পাশে থাকবেন। আমরা সবাই এক।’

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মনোয়ার হোসেন ডিপজলও। তিনি বলেন, ‘নিপুণকে আমি এনেছিলাম চলচ্চিত্রে। তাতে হার–জিত বড় কথা নয়। ওকে আমি মেয়ের মতোই স্নেহ করি। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে থাকতে চাই। কোনো ভাগাভাগি চাই না।’
যদিও নির্বাচিত প্রার্থী এবং হেরে যাওয়াদের মধ্যে মালাবদল হলেও নিপুণ প্যানেলের ভরাডুবি নিয়ে চলছে জল্পনা–কল্পনা। নিপুণের এবার যে ভরাডুবি হচ্ছে, তা আগেই আন্দাজ করেছেন অনেকে। কারণ, নির্বাচনের আগেই বহু জটিলতায় পড়তে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তাঁর হাত ছেড়ে দিয়েছিলেন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তখনই অথই সাগরে পড়ে যান চিত্রনায়িকা। এরপর মাহমুদ কলিকে নিয়ে মাঠে নামলেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি অভিনেত্রী। যার ফল এই নির্বাচন।



আলেকজান্ডার বো সবচেয়ে বেশি ভোট, অন্যরা কে কয়টি পেলেন

দেশীয় চলচ্চিত্রে একসময় আলেকজান্ডার বোর ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন আর চলচ্চিত্রে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। নির্বাচন ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়োজনে মাঝেমধ্যে তাঁকে দেখা যায়। সেই আলেকজান্ডার বো এবারের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে চমকে দিলেন। বিজয়ী সব সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৬ ভোট পেয়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলেকজান্ডার বো বলেন, ‘ভোটাররা আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

আলেকজান্ডার বো বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করে আসছি। এই জায়গাটা একটা পরিবারের মতো। এখন কিছুটা কমে গেলেও একসময় এই পরিবারের বন্ধনটা আরও বেশি শক্তিশালী ছিল। আমরা আগে যখন কাজ করেছি, সবাই সুখে–দুঃখে একসঙ্গে থেকে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই জায়গা থেকে ভোটাররা আমাদের মতো শিল্পীদেরকে ভালো করেই চেনেন, জানেন। হয়তো সে কারণেই এত ভোটের ব্যবধানে আমাকে জয়ী করেছেন।’

এর আগেরবারের নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা শাহনূরের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আলেকজান্ডার বো। তবে তারও আগে দুবার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই অভিনেতা। আলেকজান্ডার বো এবার মিশা-ডিপজল প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করেন।

তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক নায়ক মারুফ আকিবকে হারিয়েছেন ১৩৭ ভোটে, মারুফ পেয়েছেন ১৪৯ ভোট। ১৯৯৫ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লম্পট’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা করেন আলেকজান্ডার বো। পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবিতে শিমলার বিপরীতে আলেকজান্ডারের অভিনয় প্রশংসিত হয়।

গতকাল শুক্রবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ভোট হয়। ভোট গণনা শেষে আজ শনিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৫৭০ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৪৭৫টি। বৈধ ব্যালট ৪৩৪টি, বাতিল ব্যালট ৪১টি। জানা গেছে, ২৬৫ ভোট পেয়ে এ মেয়াদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বিগত দুই মেয়াদের সভাপতি মিশা সওদাগর। মাহমুদ কলি ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ২২৫ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছেন নিপুণ আক্তার, তিনি পেয়েছেন ২০৯ ভোট। সহসভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন মাসুম পারভেজ রুবেল ও ডি এ তায়েব। রুবেল পেয়েছেন ২৩১ ভোট, ডি এ তায়েব ২৩৪ ভোট।

এ ছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক আরমান ২৩৭, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী ২৫৫, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো ২৮৬, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর ২৪৫, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মামনুন হাসান ইমন ২৩৫ ও কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এবার কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মিশা-ডিপজল পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন নয়জন। তাঁদের মধ্যে সুচরিতা ২২৮, রোজিনা ২৪৩, আলীরাজ ২৩৯, সুব্রত ২১৮, দিলারা ইয়াসমিন ২১৮, শাহনূর ২৪৫, নানা শাহ ২১০, রত্না কবির ২৬৩ ও চুন্নু ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কলি-নিপুণ পরিষদ থেকে রিয়ানা পারভিন পলি ২২০ ও সনি রহমান ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এর আগে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে নয়টায় এফডিসির শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন খোরশেদ আলম। সদস্য হিসেবে ছিলেন এ জে রানা ও বি এইচ নিশান।

 




নির্বাচনে মাহমুদ কলি–নিপুণদের ভরাডুবির যত কারণ

নানা জল্পনার পর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচন হয়ে গেছে। এতে নিপুণ পরাজিত হয়েছেন খল চরিত্রের অভিনেতা ডিপজলের কাছে। মাহমুদ কলি হেরেছেন মিশা সওদাগরের কাছে। শুধু কলি– নিপুণ নয়, তাঁর প্যানেলের রীতিমতো ভরাডুবি হয়েছে—যা সংশ্লিষ্ট অনেককে অবাক করেছে। নির্বাচনে এমন ভরাডুবির বেশ কয়েকটি কারণ আছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে গেল মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনয়শিল্পী শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নতুন করে আলোচনায় আসেন। একই আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জায়েদ খান। ভোটে এই পদের জটিলতার নিরসন হয়নি। ভোট শেষে এই পদের জটিলতা সমাধানে আদালতের দ্বারস্থ হন নিপুণ ও জায়েদ। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে নিপুণ দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। সমিতির দায়িত্ব পালনের পুরো দুই বছর সময়ে জায়েদ খান সমালোচনা করেন নিপুণের। হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি নিপুণও, তিনি জায়েদের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে শিল্পী সমিতির এসব সদস্যের অসংলগ্ন কথাবার্তায় বিরক্ত ছিলেন জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও।

গেল মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার এবারও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জানান, এই মেয়াদের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি আর অংশ নেবেন না। হঠাৎ করে সভাপতির এমন ঘোষণায় বেকায়দায় পড়েন নিপুণ। এমনকি কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের সাইমন সাদিকসহ কয়েকজন সদস্যের সরে যাওয়াটা এবারের নির্বাচনে নিপুণ প্যানেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অন্যদিকে মিশা-ডিপজল তাঁদের গুছিয়ে ফেললেও নিপুণকে সভাপতি প্রার্থী খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়। অনেক তারকাকে রাজি করানোর চেষ্টার খবর এলেও শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, নিপুণ সভাপতি হিসেবে পান একসময়ের আলোচিত নায়ক মাহমুদ কলিকে। তারপরও যেন নির্বাচনী মাঠ জমাতে পারেননি তিনি। প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা মিশা-ডিপজল প্যানেলের প্রার্থীদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী ছিল বলেও কেউ কেউ মত দেন, যা নিপুণের জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি। তা ছাড়া গেল মেয়াদে নিপুণের সঙ্গে যাঁরাই ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শাহনূর, নানা শাহ ও ডি এ তায়েবের মতো অনেকেই যখন তাঁকে ছেড়ে মিশা-ডিপজলের সঙ্গে যোগ দেন, তা সবচেয়ে নেতিবাচক ছিল। এসব নির্বাচনের সময় ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।

২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনে নিপুণ সভাপতি হিসেবে পাশে পেয়েছিলেন জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চনকে। এ বছরের মার্চে হঠাৎ করে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তিনি। ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে জানান, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে টাকার ছড়াছড়ি হয়। ভোটাররা প্রতিটি প্যানেল থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেন। হঠাৎ করে সভাপতির এমন বক্তব্য সাধারণ সম্পাদকসহ সেই প্যানেলের জন্য মন্দ বার্তা বয়ে আনে, যা ভোটে প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনের আগে নিপুণের ক্ষমতা প্রদর্শনের ব্যাপারটি সামনে এসেছে। এবারের মেয়াদের নির্বাচন শুরুর আগ মুহূর্তে নিপুণ তাঁর ক্ষমতাবলে কয়েকজনকে শিল্পী সমিতির সদস্যপদ দিয়েছেন, এমন কথা চলচ্চিত্রের অনেকে বলেছেন। আবার ফেসবুক দেওয়া পোস্টকে ঘিরে সদস্যপদ বাতিলের ব্যাপারটিও নিপুণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরের সদস্যপদ এবং তাঁর নির্বাচনের বিষয়টিও নিপুণকে সমালোচনায় ফেলে। নিপুণের প্যানেল থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা যখন আসে, তখন চলচ্চিত্র শিল্পীদের নিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বেফাঁস মন্তব্যও নির্বাচনে নিপুণ প্যানেলের জন্য নেতিবাচক হয়েছে।

গেল মেয়াদে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পীরজাদা শহীদুল হারুন। তাঁর সঙ্গে নিপুণের দ্বন্দ্ব ছিল প্রকাশ্যে। দুজন দুজনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেও ছাড়েননি। সেই পীরজাদাকে এবার দেখা গেছে কলি-নিপুণ প্যানেলে। হঠাৎ করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ‘চিরশত্রু’ হিসেবে পরিচিত পীরজাদা হারুনের সঙ্গে হাত মেলানো এবং একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে নিপুণকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কারও কারও মতে, নিপুণ শিল্পী সমিতির চেয়ারে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, যা মোটেও ঠিক হয়নি। জোর খাটিয়েছেন।

নিপুণের এমন আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় গেল মেয়াদে তাঁরই প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রার্থী চিত্রনায়িকা শাহনূরের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। এবার তিনি নিপুণের বিপরীত প্যানেল থেকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। এরপর তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জোর করে কারও মনে স্থান পেতে যাবেন না। আপনাকে যদি তাঁর প্রয়োজন থাকে, তাঁর মনে এমনিতেই আপনার জন্য জায়গা থাকবে।’ অনেকে ফেসবুকে এমনও লিখেছেন বিগত সময়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন বা অন্য অনুষ্ঠানে চিত্রনায়িকা নিপুণ ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণ করেছেন।

আবার কারও কারও মতে, গেল মেয়াদে বিজয়ী হয়ে আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি নিপুণ। তাঁরই প্যানেলে সদস্য নানা শাহ এ বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরেছেন এভাবে, ‘আগেরবার আমি এবং ডি এ তায়েব নিপুণের সঙ্গে নির্বাচন করেছিলাম। ভালো কিছু কাজের আশা করেই তাদের সঙ্গে নির্বাচন করেছিলাম। তারা কথা দিয়েছিল সিনেমা নির্মাণ করবে। একটি কথা মনে রাখবেন, শিল্পী সমিতি সিনেমা নির্মাণ করতে পারে না। কিন্তু নিপুণ কথা দিয়েছিল ছয়টি সিনেমা নির্মাণ করবে। আমি তার কথা অনুযায়ী এগিয়ে ছিলাম। দুটি সিনেমায় এন্ট্রি করেছিলাম। কিন্তু তারা আমার পাশে কেউ আসেনি। নিপুণ কথা রাখেনি। তার প্যানেলে গিয়ে ভুল করেছিলাম। আমরা শিল্পীরা সম্মান ও ভালোবাসা চাই। এটা যখন আমরা হারিয়ে ফেলি তখন খুব কষ্ট পাই।সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে আমাদের অনেক শিল্পী এখন বেকার। তাদের জন্য শিল্পী সমিতি দুই বছরে কী করতে পেরেছে? দুই বছরে শিল্পী সমিতির সফলতা দেখছি না।’




Manon Reza became the first IM norm, may become GM norm too

কদিন আগেই নিজের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম করেছেন ফাহাদ রহমান। দাবার জন্য এবার এসেছে আরেকটি সুখবর—আন্তর্জাতিক মাস্টার নর্ম করেছে ১৪ বছর বয়সী ফিদে মাস্টার মনন রেজা (নীড়)।

থাইল্যান্ডে ২১তম ব্যাংকক চেস ক্লাব ওপেন টুর্নামেন্টে এক রাউন্ড বাকি থাকতেই নর্ম পূরণ হয়েছে তার। আজ অষ্টম রাউন্ডে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক মাস্টার ড্যানিয়েল কুইজনকে হারিয়ে ৮ ম্যাচে মননের পয়েন্ট হয়েছে সাড়ে ৬। টুর্নামেন্টে একটি করে ড্র ও হার। বাকি ৬ ম্যাচে জয় কিশোর এই দাবাড়ুর। আগামীকাল শেষ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী যদি উচ্চ রেটিংয়ের কেউ হন এবং তাঁকে যদি হারাতে পারে মনন রেজা, তাহলে গ্র্যান্ডমাস্টার নর্মও হতে পারে।

তবে শেষ রাউন্ডে হারলেও আইএম নর্ম নিশ্চিত বলে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল। তিনি নিজেও এই টুর্নামেন্টে খেলছেন। বাংলাদেশ থেকে টুর্নামেন্টে আরও খেলছেন ফিদে মাস্টার নাঈম হক, তৈয়বুর রহমান সুমন ও তাসরিক শায়ান। ১৩ এপ্রিল টুর্নামেন্টটা শুরু হয় ব্যাংকক থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার দূরত্বের শহর হুয়া হিনে।

মনন রেজা ফিদে মাস্টার হয়েছে গত বছর। এটি তার প্রথম আইএম নর্ম। আইএম হতে হলে তিনটি নর্মের পাশাপাশি ২৪০০ রেটিং লাগে। মনন ২২৮৫ রেটিং নিয়ে থাইল্যান্ডে খেলতে যায় মনন। সেখানে দুটি টুর্নামেন্টে তার রেটিং বেড়েছে ১৫৪। ফলে তার রেটিং ২৪০০ পার হয়ে হয়ে গেছে। এখন তার আর দুটি নর্ম দরকার।

সেটি সহসাই অর্জনের আশা মননের। থাইল্যান্ড থেকে প্রথম আলেকে সে বলেছে, ‘এই টুর্নামেন্টে আমার আসারই কথা ছিল না। শেষ দিনে ভিসা হয়েছে। তাই আসতে পেরেছি। তবে টুর্নামেন্টটার কথা জানতাম না। শাকিল স্যার (দাবাড়ু আবু সুফিয়ান) বিস্তারিত বলার পর আসি। এখানে আমি দুজন গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারাই। একজন ভারতের, আরেকজন কাজাখস্তানের। দুজন আইএমকে হারাই। আরেকজন আইএমের সঙ্গে ড্র করেছি। আরেকজন আইএমের কাছে হেরেছি। দুজন সাধারণ রেটেড প্লেয়ার। আজ আমার প্রথম আইএম নর্ম হয়েছে। আমি খুব খুশি।’

মনন রেজা নারায়ণঞ্জের ফিলোসোফিয়া স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ছে।




Hyderabad's 125 in the Powerplay, a world record in T20Is

Kolkata Knight Riders scored 105 runs in the first 6 overs against Royal Challengers Bangalore in the 2017 IPL. This was the IPL record in the power play. Seven years later, Sunrisers Hyderabad broke not only that record but also the recognized T20 power play record. Hyderabad scored 125 runs without a wicket in the power play against Delhi Capitals at the Arun Jaitley Stadium in Delhi.

The previous world record was held by Nottinghamshire, who scored 106 runs in the first 6 overs against Durham in the 2017 NatWest T20 Blast.

Travis Head started the havoc by hitting Khalil Ahmed for a six in the second ball of the innings. 19 runs came in that over. 21 runs came in the second over bowled by Lalit Yadav. The Australian opener hit 2 sixes in that over. 22 runs came in the third over bowled by Anrich Norquier, 22 runs were scored by Head. The batsman, who had scored a century in the previous match, also got a fifty. Head reached this milestone by hitting 50 sixes in 16 balls.

In the next over bowled by Lalit, Head-Abhishek Sharma scored another 21 runs. In the next over, Kuldeep Yadav came on the attack and gave away 20 runs. Hyderabad reached 100 off the last ball of the over. The team became the first team in the history of IPL to score 100 runs in 5 overs. 22 runs came in the last over of the power play.

At the end of the power play, Head was unbeaten on 84 off 26 balls and Abhishek was unbeaten on 40 off 10 balls. Kuldeep broke the 131-run partnership by catching Abhishek (46 off 12 balls) off the second ball of the seventh over to Axar Patel. Aiden Markram was also out in the Axar-Kuldeep partnership on the last ball of that over (1 run from 3 balls). Kuldeep took another wicket on the last ball of the ninth over. This time, he was caught at long on and sent off Head (89 off 32 balls). Abhishek and Head both hit 6 sixes each.

Axar Patel took another wicket for Delhi Capitals off the next ball. He bowled Heinrich Klaasen. Hyderabad, who had scored 125 runs without a wicket, ended the innings at 162/4 with Klaasen's dismissal.

Hyderabad, who suddenly lost their edge, this time raised hopes of breaking the record of the highest team innings in IPL, but in the end, they stopped 21 runs short of it. In the end, another stormy innings from Shahbaz Ahmed helped Hyderabad score 266 runs for 7 wickets. Which is the fourth highest in IPL history. Shahbaz was unbeaten on 59 runs off 29 balls with 2 fours and 5 sixes.

Although they failed to break the team's record for the highest number of runs, Hyderabad has set a record for the most sixes in an innings in IPL. The team has hit a total of 22 sixes. Which is a joint record in IPL history. Hyderabad had hit 22 sixes against Royal Challengers Bangalore this year.




Hooda is the best fielder for missing a catch and 'allowing Dhoni to play 5 balls less'

Lucknow Super Giants fielding coach Jonty Rhodes has made it a tradition to award the 'Best Fielder' award to one person at the end of the match. The former cricketer, famous for his fielding, announced the name of one person in the dressing room after the Chennai-Lucknow match.

In such cases, the best fielder is awarded to someone who takes a great catch or saves runs with great fielding. But after the match against Chennai, Rhodes chose Deepak Hooda as Lucknow's best fielder, who missed a catch from Ravindra Jadeja while fielding! Hooda's missed catch also went for a six.